জামিরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ( নাটোর জেলা) :
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন দয়ারামপুর সাব জোনাল অফিসের এলাকায় বিদ্যুতের ঘন ঘন বিভ্রাট ও দীর্ঘ সময় সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। নির্ধারিত মেরামতকাজ শেষে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও কিছু সময়ের মধ্যেই আবার ফিডার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
আজকে ২০ জুন শনিবার পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দেওয়া নোটিশ অনুযায়ী, ৩৩ কেভি লাইনের মেরামতকাজের জন্য সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের পর বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ফিডার চালু করা হলেও মাত্র ৩৫ মিনিট পর বিকেল ৪টার দিকে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। এতে দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটাতে হয়েছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে দয়ারামপুর সাবস্টেশন এলাকায় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কখন বিদ্যুৎ থাকবে আর কখন থাকবে না—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে গ্রাহকদের।
ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও চাকরিজীবীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, সেচ কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ছেন।
একাধিক গ্রাহক বলেন, “নোটিশ দিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করা হলে আমরা তা মেনে নিই। কিন্তু মেরামত শেষে কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার বিদ্যুৎ চলে গেলে মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থার শেষ কোথায়?”
সমস্যার কারণ জানতে চাইলে দয়ারামপুর সাব জোনাল অফিসের এজিএম মমিনুল ইসলাম বলেন, “প্রয়োজনীয় বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে । তবে গ্রাহকদের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ সেবার জন্য নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও কেন তাদের এমন দুর্ভোগের শিকার হতে হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকলে তার দায় সাধারণ মানুষ কেন বহন করবে—এ প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দয়ারামপুর সাব জোনাল অফিসের এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের সেবার মান, পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন আরও জোরালো হবে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


0 Comments